বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল

আগামী ১লা জুলাই থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অবৈধ মোবাইল শনাক্তের কাজ শুরু করবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধ করা হবে।

তবে এক্ষেত্রে আগে গ্রাহককে তার ফোন বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হবে। অবৈধ মোবাইলগুলো শনাক্তের জন্য ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সিস্টেমর সহায়তা নেবে বিটিআরসি। বাংলাদেশে প্রথম এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এতে মোবাইল গ্রাহকদের কোন ধরনের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি।

আরও পড়ুন: মোবাইল অ্যাপ জানাবে স্বাস্থ্য তথ্য

এ বিষয়ে জানা গেছে, যখন কোনো হ্যান্ডসেটে সিম কার্ড প্রবেশ করা হবে, তখন এটি বিটিআরসি তথ্য ভান্ডারে একটি সংকেত পাঠাবে। যদি ফোনের আইএমইআই নাম্বারের সাথে মিলে তাহলে সিম কার্ডটি চালু হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি ফোনের চাহিদা রয়েছে। যার মধ্যে এর বড় একটি অংশ অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করছে বা দেশের বাইরে থেকে আনা হচ্ছে। আমরা পুরো সেক্টরকে প্রটোকলের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। মূলত আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য এই কাজ করা হচ্ছে। আর অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করা ফোনগুলোকে সুযোগ দেওয়া হবে বৈধ করার জন্য। এজন্য সবার কাছে মেসেজ পাঠানো হবে। কারো যোগাযোগে কোনো সমস্যা ঘটবে না। বিদেশ থেকে কেনা মোবাইল ফোনগুলোর ক্ষেত্রে বিটিআরসিতে ফোনের বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়ে নিবন্ধন করা যাবে। বিটিআরসি এরমধ্যে বৈধ ফোনগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এনইআরআইআর-এর ইনস্টলেশনের কাজ শেষ করা হবে।

আরও পড়ুন: ফেসবুক কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার সুবিধা দিচ্ছে

বিটিআরসির থেকে বলা হয়েছে, এর আগে অবৈধ মোবাইল বৈধ করার নির্দেশনা দিয়ে একটি মেসেজ দেওয়া হয়েছিল। এখনও আমরা মানুষকে অবহিত করার চেষ্টা করছি। আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশে এই প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করব। কর্মকর্তারা বলেন, যে কেউ তাদের ফোন থেকে এসএমএস প্রেরণের মাধ্যমে আমদানি করা ফোনের বৈধতা পরীক্ষা করতে পারবেন। এনইআইআর অস্থায়ী পদ্ধতিতে ১৫ দিনের জন্য কাজ করবে এবং এর ট্রায়েল হিসাবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্যক্রম চলবে। যদি সচল সিম কার্ড মোবাইলে লাগানোর পর বিটিআরসি ডাটাবেসে কোনও ফোন না পাওয়া যায়, তাহলে বিটিআরসি ওই ফোনের আইএমইআইকে ‘সাদা তালিকা’য় ৭ রেখে ব্যবহারকারীকে ফোনটি আমদানি বা কেনার আইনি নথি ব্যবহার করে নিবন্ধন করার জন্য সময় দেবে। যদি কোনো ব্যবহারকারী তার ফোনটি অন্য ব্যবহারকারীর নিকট বিক্রি করতে চান, তবে তাকে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফোনটি নতুন ব্যবহারকারীর নামে পুনরায় নিবন্ধন করাতে হবে।

বিটিআরসি কর্মকর্তারা বলেন, প্রথম ৩ মাস তারা সংশোধন, বিচারসহ ইত্যাদি কাজের জন্য এনইআইআর প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। পরে তারা ব্যবহারকারীর সমস্যাগুলোর সমাধান করে প্রক্রিয়াটির পুর্ণ ব্যবহার করবে।

প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মোবাইল ফোনেরর গ্রহক চাহিদা রয়েছে। এর বিশাল একটা অংশই আসে চোরাই পথে। এর ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী যে বাজেট সংসদে পেশ করেন সে বাজেটে বিদেশি ফিচার ফোননের উপর আমদানির উপর শুল্কহার বাড়ানো হয়েছে। এতে বাজারে আসা অবৈধ ফোনগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

ফেজবুক পেজ: এখানে দেখুন

Share now